আজ ৪ আষাঢ় ১৪২৮, শুক্রবার ১৮ জুন ২০২১ , ৯:৩৮ অপরাহ্ণ
ব্রেকিং নিউজ
সর্বশেষ খবর
নারায়ণগঞ্জবাসীকে ঈদুল ফিতরের আগাম শুভেচ্ছা জানালেন সজল বিন ইবু রূপগঞ্জ উপজেলায় সকল মার্কেট বন্ধের নির্দেশ সোনারগাঁয়ে সকল বিপনি বিতান বন্ধ করে দিলেন প্রশাসন না’গঞ্জের সাবেক সেই এসপি হারুন এবার ডিএমপির উপ-কমিশানর করোনা: শরীফুল হকের পক্ষে সবাইকে সচেতন থাকার আহ্বান জানালেন শাওন

দরিদ্র কৃষকের ধান কেটে ঘরে তুলে দিলো ছাত্রলীগ


১৯ এপ্রিল ২০২০ রবিবার, ০৩:৫৩  পিএম

সময় নারায়ণগঞ্জ


দরিদ্র কৃষকের ধান কেটে ঘরে তুলে দিলো ছাত্রলীগ

হাফেজ আহমেদ একজন অসহায় দরিদ্র কৃষক। তার পাকা ধান পড়ে আছে ফসলের মাঠে।

করোনায় শ্রমিক ও অর্থ সংকটে সেই পাকা ধান ঘরে তোলা নিয়ে চরম দুশ্চিন্তায় ছিলেন তিনি। অবশেষে দরিদ্র এই কৃষকের দুশ্চিন্তা দূর করলেন ছাত্রলীগের একদল নেতাকর্মী।

কক্সবাজার জেলা ছাত্রলীগের উপ-দপ্তর সম্পাদক ও কক্সবাজার ইন্টারন্যাশনাল ইউনির্ভাসিটি ছাত্রলীগের সভাপতি মইন উদ্দিনের নেতৃত্ব ৩০ জন ছাত্রলীগের নেতাকর্মী তার ধান কেটে ঘরে তুলে দিয়েছেন।

রোববার (১৯ এপ্রিল) ও শনিবার (১৮ এপ্রিল) দুই কানি (৮০ শতক) পরিমাণের ধান কেটে দেন তারা।

কৃষক হাফেজ আহমদের বাড়ি কক্সবাজার সদর উপজেলার খুরুশকুল ইউনিয়নের রাস্তারপাড়া এলাকায়। তার ধানক্ষেতও ওই এলাকায়।

কৃষক হাফেজ আহমেদ জানান, তিনি এবার দুই কানি (৮০ শতক) জমিতে বোরো ধানের চাষ করেছিলেন। ফলনও এবার ভালো হয়েছে। ক্ষেতের ফসলে পাক ধরেছে কিন্তু ধান কাটার মজুরের অভাব। এ অবস্থায় প্রতিবেশী ছাত্রলীগ নেতা অনিককে বলেছিলেন কষ্টের কথা। কিন্তু গতকাল সকালে অবাক হয়ে দেখেন আকস্মিক কাঁচি হাতে একদল ছাত্র উপস্থিত ধান কাটতে।

ছাত্রলীগ নেতা মইন উদ্দীন বলেন, ‘কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ নির্দেশ দিয়েছেন কৃষকদের পাশে থাকতে। ছাত্রলীগ যেকোনো মানবিক সঙ্কটে সাধারণ মানুষের পাশে থাকে। এরই ধারাবাহিকতায় ইউনিয়ন ছাত্রলীগের মাধ্যমে খবর পাই শ্রমিক সংকটের কারণে হাফেজ আহমেদ তার পাকা ধান কাটতে পারছেন না। বৈশাখী মাস, তাই যে কোনো সময়ে ঝড়-বৃষ্টি হলে ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা থাকে। তাই আমরা ছাত্রলীগের ৩০ নেতাকর্মী কাঁচি-মাথাল (ধান কাটার সরঞ্জাম) নিয়ে হাজির হই। শনিবার সারাদিন ও রোববার সকালে কাজ করে ২ কানি জমির ধান কেটে দিয়েছি।’

তিনি বলেন, ‘প্রথমে ওই কৃষক বিশ্বাসই করতে পারছিলেন না, আমরা বিনা পারিশ্রমিকে তার ধান কেটে ঘরে তুলে দেবো। পরে যখন তার জমির ধান কেটে বাড়িতে এনে দিলাম তার মুখের হাসি আমাদের অন্যরকম আনন্দ দিয়েছে। এর চেয়ে বড় পাওয়া আর কিছুই নেই। এই দুঃসময়ে প্রত্যেকের উচিত কৃষকদের পাশে দাঁড়ানো।’

কৃষক হাফেজ আহমেদ বলেন, ‘একজন শ্রমিকের মজুরি ৫/৬’শ টাকা। তার ওপর দুই বেলা ভাত দিতে হয়। এই ছেলেগুলো আমার বড় উপকার করে দিয়ে গেছে। তাদের জন্য কিছুই করতে পারলাম না, তবে দোয়া করছি।’

এর আগে করোনা পরিস্থিতি মোকাবেলায় হ্যান্ড স্যানিটাইজার তৈরি করে মইন উদ্দিনের ছাত্রলীগ নেতৃবৃন্দ। এছাড়াও মাইকিং করে জনসচেতনতা সৃষ্টি, ফ্রি মুখের মাস্ক ও হ্যান্ড গ্লাবস বিতরণ, লিফলেট বিলিসহ অসহায় ও মধ্যবিত্তদের মাঝে খাবার বিতরণ করেন।

সময় নারায়নগঞ্জ.কম এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আপনার মন্তব্য লিখুন:

জাতীয় -এর সর্বশেষ