আজ ১৬ কার্তিক ১৪২৭, শনিবার ৩১ অক্টোবর ২০২০ , ৬:৪৭ পূর্বাহ্ণ
ব্রেকিং নিউজ
সর্বশেষ খবর
নারায়ণগঞ্জবাসীকে ঈদুল ফিতরের আগাম শুভেচ্ছা জানালেন সজল বিন ইবু রূপগঞ্জ উপজেলায় সকল মার্কেট বন্ধের নির্দেশ সোনারগাঁয়ে সকল বিপনি বিতান বন্ধ করে দিলেন প্রশাসন না’গঞ্জের সাবেক সেই এসপি হারুন এবার ডিএমপির উপ-কমিশানর করোনা: শরীফুল হকের পক্ষে সবাইকে সচেতন থাকার আহ্বান জানালেন শাওন

সোনারগাঁয়ে লিচু বাগান মালিকদের মাথায় হাত !


১৩ মে ২০২০ বুধবার, ১২:২০  পিএম

সময় নারায়ণগঞ্জ


সোনারগাঁয়ে লিচু বাগান মালিকদের মাথায় হাত !

নজরুল ইসলাম শুভ, সোনারগাঁ : সোনারগাঁয়ের বিখ্যাত রসালো লিচু পেকেছে। আগামী এক সপ্তাহের মধ্যেই লিচু পুরোদমে বাজারে চলে আসবে বলে আশা করছেন ব্যবসায়ীরা। এবার খরা ও ঝড়-বৃষ্টি তেমন না থাকায় লিচুর ভালো ফলন হয়েছে বলে জানান তারা। তবে করোনার প্রভাবে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন অধিকাংশ লিচু বাগানী ও ব্যবসায়ীরা। করোনা পরিস্থিতিতে লিচুর উপযুক্ত দাম পাওয়া ও বিক্রি নিয়ে শঙ্কিত তারা। দুশ্চিন্তায় দিন কাটছে তাদের। করোনার কারণে লিচুর বাজার এবার কেমন হবে তারা আঁচ করতে পারছেন না।

সোনারগাঁয়ের লিচু বাজারে আগাম আসে বলে দেশের অন্যান্য অঞ্চলের লিচুর তুলনায় সোনারগাঁয়ে লিচুর বাগানী ও ব্যবসায়ীরা বেশ সুবিধা করতে পারেন। আগাম লিচুর চাহিদাও থাকে একটু বেশি। সুস্বাদুু সুমিষ্ট হিসেবে সোনারগাঁয়ের লিচুর কদর রয়েছে বেশি।
বিভিন্ন লিচু বাগান ঘুরে দেখে যায়, এখন বাগানের প্রতিটি গাছে থোকায় থোকায় লিচু ঝুলছে। ঝাঁকড়া গাছের ডালে ডালে ঝুলন্ত লাল টকটকে রঙের ছোট এই ফলের গুচ্ছ দেখতে বেশ মনোরম। স্থানীয় ব্যবসায়ীরা রাত জেগে পাহারা দিচ্ছে বাগান। বাদুড় ও কাকের উপদ্রপ থেকে বাঁচতে তারা গাছের চূড়ায় ইলেক্সটিক বাতি, পলিথিন কাগজ, বাস ও টিনের তৈরি বিভিন্ন ধরনের বাজনা (ঠাঠা) লাগিয়ে বাগানের ভেতর ঘর বানিয়ে দিন থাকে। এ কাজে তাদের পরিবারের সদস্যরাও সহযোগিতা করছে। অনেক ব্যবসায়ী লিচু গাছ থেকে লিচু ছিঁড়ে বাজারে বিক্রি করার জন্য টুকরি, বাঁশ, রসি ও বিভিন্ন সরঞ্জাম তৈরি বা সংগ্রহ করছে।
সোনারগাঁ উপজেলা কৃষি অফিসের তথ্য মতে, সোনারগাঁ পৌরসভার, বৈদ্যেরবাজার, মোগরাপাড়া, বারদী, সনমান্দি ও সাদিপুর ইউনিয়নের বিভিন্ন স্থানে লিচু বাগান রয়েছে। তবে পৌরসভার সরদার বাড়ী, বাংলাদেশ লোক ও কারুশিল্প ফাউন্ডেশন, দুলালপুর, বাড়ী মজলিশ, দীঘিরপাড়, পানাম, অর্জুন্দি, বাগমুছা, দত্তপাড়া, গোবিন্দপুর, হাতকোপা, দরপত, ছাপেরবন্ধ, গোয়ালদী, টিপরদী, হরিষপুর, ইছাপাড়া, চিলারবাগ, কৃষ্ণপুরা, হাঁড়িয়া, পানাম গাবতলী, ষোলপাড়া ও ভট্টপুর এলাকায় উৎকৃষ্টমানের লিচুর চাষ হয়। সোনারগাঁওয়ের লিচু রঙে ও স্বাদে অতুলনীয়।
লিচু চাষিরা জানায়, সোনারগাঁয়ে বর্তমানে কদমী, মোজাফফরপুরী, চায়না-৩, এলাচি ও পাতি- এই পাঁচ ধরনের লিচুর চাষ হয়ে থাকে। তবে কদমী লিচু চাষের প্রতি চাষিরা মনোযোগী বেশি। প্রতি বছর এক একটি বাগান তিন চার লাখ টাকায় বিক্রি হয়। তাই কোথাও একটু খালি জায়গা পেলেই চাষিরা সেখানে কদমী লিচুর গাছ লাগায় বা বাগান তৈরি করে। আগে সাধারণত শৌখিনতার বসে বাড়ির আশপাশে লিচু গাছ লাগানো হতো। এখন তা বাণিজ্যিকভাবে নিচু জমি ভরাট করে লিচু বাগান তৈরি করা হচ্ছে। বাড়ির আঙিনায় ও কৃষি জমির পাশেও লিচুর চাষ করছেন অনেকেই। লিচুর মধ্যে সবার আগে বাদামি (পাতি) লিচু পাকে। এর পর পর্যায়ক্রমে অন্যান্য লিচু পাকতে শুরু করে। স্বাদে ও রসে পাতির লিচুর কদর রয়েছে বেশ। সোনারগাঁয়ে ছোটবড় মিলিয়ে তিন শতাধিক লিচুর বাগান রয়েছে। এসব বাগানের বেশির ভাগেই কদমী লিচুর চাষ হয়।
লিচু বাগান মালিক দুলাল জানান, সোনারগাঁয়ে বিভিন্ন প্রজাতির লিচুর চাষ হলেও কদমী লিচুর চাষে অধিক মুনাফা পাওয়া যায়। তিনি জানান, প্রথমে ছোট পরিসরে এর চাষ শুরু হলেও এখন তা ব্যাপকভাবে হচ্ছে। লিচুর চাষ লাভজনক হওয়ায় প্রতিনিয়ত জমির মালিকরা লিচু গাছ লাগাচ্ছে। এবার করোনার প্রভাবে বাগানের ভালো দাম পাননি তিনি।
দিঘীরপাড় এলাকার লিচু ব্যবসায়ী বাবু জানান, আমরা লিচুর ফলন না দেখেই বাগান মালিকের কাছ থেকে ক্রয় করে থাকি। লিচু ব্যবসায়ীরা ভাগ্যের ওপর নির্ভর করে লিচু ব্যবসা করে। তবে এবারে করোনার জন্য দুশ্চিন্তায় আছি। দাম ভালো না পেলে লোকসান গুনতে হবে।
সোনারগাঁ পৌরসভার দরপত এলাকার লিচুর বাগান মালিক পনির জানান, আমার ৩০ শতাংশ জমিতে ২৭টি লিচুর গাছ। অন্যান্য বছরের তুলনায় এ বছর ভালো ফলন হয়েছে।
লিচু ব্যবসায়ী রহিম মিয়া বলেন, এ বছর ভালো ফলন হয়েছে। কিন্তু করোনাভাইরাসের কারণে বিক্রি করতে পারব কি না জানি না। সরকার যদি বিক্রির জন্য সুবিধা করে দেয় পুঁজি-পাট্টা ওঠাতে পারব। না হলে লোকসান গুনতে হতে পারে।
স্থানীয়রা জানায়, অন্যান্য এলাকার লিচুর চেয়ে সোনারগাঁয়ের লিচু আকারে বড় ও সুস্বাদু হওয়ায় এ লিচুর চাহিদা বেশি। সবার আগে এই লিচু বাজারে আসে। তাই চাহিদা থাকে বেশি। তবে এবার কতটুকু চাহিদা বা দাম থাকবে তা বলা মুশকিল।
সোনারগাঁ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মনিরা আক্তার জানান, সোনারগাঁয়ে লিচু পাকার জন্য চাষিরা কোনো রাসানিক দ্রব্য প্রয়োগ করে না। তবে লিচু বড় হওয়ার ক্ষেত্রে হরমোন জাতীয় ওষুধ, লিচুর রঙ নষ্ট না হওয়ার জন্য ছত্রাকনাশক ও পোকার উপদ্রব বন্ধ করার জন্য তারা কীটনাশক প্রয়োগ করে থাকে।
সোনারগাঁ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো: সাইদুল ইসলাম জানান, সোনারগাঁয়ের লিচু আকারে বড় ও সুস্বাদু হয়। এ বছর লিচুর ফলন ভালো হয়েছে। করোনার কারণে যাতে লিচু হাটে-বাজারে ব্যবসায়ীরা নিতে পারে সে ব্যাপারে পদক্ষেপ নেয়া হবে।

সময় নারায়নগঞ্জ.কম এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আপনার মন্তব্য লিখুন:

শহরের বাইরে -এর সর্বশেষ