আজ ১১ অগ্রাহায়ণ ১৪২৭, বুধবার ২৫ নভেম্বর ২০২০ , ৫:০০ অপরাহ্ণ
ব্রেকিং নিউজ
সর্বশেষ খবর
নারায়ণগঞ্জবাসীকে ঈদুল ফিতরের আগাম শুভেচ্ছা জানালেন সজল বিন ইবু রূপগঞ্জ উপজেলায় সকল মার্কেট বন্ধের নির্দেশ সোনারগাঁয়ে সকল বিপনি বিতান বন্ধ করে দিলেন প্রশাসন না’গঞ্জের সাবেক সেই এসপি হারুন এবার ডিএমপির উপ-কমিশানর করোনা: শরীফুল হকের পক্ষে সবাইকে সচেতন থাকার আহ্বান জানালেন শাওন

করোনার কবলে জেলা পুলিশের ‘গতি হারানোর শঙ্কা’


০৪ মে ২০২০ সোমবার, ১২:১৯  পিএম

সময় নারায়ণগঞ্জ


করোনার কবলে জেলা পুলিশের ‘গতি হারানোর শঙ্কা’

তুষার আহমেদ : করোনা মোকাবেলায় সম্মূখ যুদ্ধে রয়েছে চিকিৎসকরা। কিন্তু প্রাণঘাতী এই ভাইরাস প্রতিরোধে মাঠ পর্যায়ে গুরুত্ব ও ঝুঁকিপূর্ন ভূমিকা রাখছে পুলিশ। করোনার অতি ঝুঁকিপূর্ন নারায়ণগঞ্জেও দিন রাত পরিশ্রম করতে হচ্ছে পুলিশকে। আক্রান্তও হচ্ছেন কর্মকর্তাসহ সদস্যরা।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, শ্রমিক অধ্যুষিত এই নারায়ণগঞ্জ অত্যন্ত ঘণবসতিপূর্ন জেলা। বিভিন্ন জেলা থেকে জীবিকার তাগিদে আসা লাখো মানুষের সমাগম রয়েছে এখানে। এ জেলায় বিপুল সংখ্যক মানুষের তুলনায় পুলিশের সংখ্যা যৎ সামান্যই বলা চলে। এই অল্প সংখ্যক পুলিশ সদস্যদের দ্বারা জেলার নানা শ্রেণি পেশার ও বিভিন্ন মতাদর্শের বিপুল সংখ্যক মানুষদের নিয়ন্ত্রণ করা অতিকষ্ট সাধ্য ব্যাপার। আর নি¤œবিত্ত মানুষের মাঝে সচেতনার অভাব থাকায় এই পরিশ্রমের মাত্রা বেড়ে যাচ্ছে বহুগুণে। কিছু সংখ্যক সচেতন মানুষ ঘর মুখো থাকলেও সিংহভাগই বিধি-নিষেধের তোয়াক্কা করছেন না।

এই বিপুল সংখ্যক মানুষদের ঘর মুখো রাখতে রাজপথসহ গ্রামে-গঞ্জে দায়িত্ব পালন করতে হয় পুলিশ সদস্যদের। এছাড়াও করোনা আক্রান্তদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে তাদের মনিটরিংয়ের কাজও করতে হচ্ছে। এতে করে ঝুঁকির মুখেই রয়েছে পুলিশ।

এদিকে, দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে করোনার ভয়াবহ ঝুঁকিতে পড়েছে জেলার পুলিশ বিভাগ। ইতমেধ্যই নারায়ণগঞ্জের অর্ধশতাধিক পুলিশ করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। ফলে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে বিরুপ প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।

অনেকেই মনে করছেন, করোনার প্রভাবে পুলিশের কার্যক্রম গতি হারাচ্ছে। পুলিশও দায়িত্ব পালনে করোনা ভীতিতে পড়েছেন। এছাড়াও লকডাউনের শুরুর তুলনায় এখন সড়কে কড়াকড়ি অবস্থানেও দেখা যাচ্ছে না পুলিশ সদস্যদের। ফলে সাধারণ মানুষের সেই ধারণা আরো জোড়ালো হয়ে উঠছে।

তবে করোনায় নারায়ণগঞ্জের পুলিশ বিভাগ ঝুঁকির মুখে পড়লেও তাদের মনেবলে চীর ধরেনি বলে জানিয়েছেন নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপার জায়েদুল আলম।

এ প্রসঙ্গে পুলিশ সুপার বলেন- ‘পুলিশ সদস্যরা করোনা মোকাবেলায় স্ব-শরীরে মাঠ পর্যায়ে কাজ করছে। ইতিমধ্যে নারায়ণগঞ্জে ৫৫জন আক্রান্ত হয়েছেন। নারায়ণগঞ্জ জেলাবাসীর সেবায় পুলিশ শুরু থেকেই মাঠে ছিলো, আছে এবং ভবিষ্যতেও থাকবে। আমার পুলিশ সদস্যদের মনোবলে কোন রকম চীর ধরেনি। তারা ভীত নয়। ইতিমধ্যে একজন সুস্থ্য হয়ে বাড়ি ফিরছেন। অন্যদেরকেও সুস্থ্য করার জন্য আমাদের জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে নানা মুখি ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। সকল খরচ জেলা পুলিশ বহন করবে।’

তিনি বলেন- ‘এখন রমজান মাস এবং একই সাথে গার্মেন্টস ফ্যাক্টরী খুলেছে। তাই পুলিশের কার্যক্রম শুধু রাস্তায় সীমাবদ্ধ নয়। তাদের দায়িত্ব বেড়েছে। এই জন্য হয়তো পাড়া-মহল্লায় আগের মত বেশি এ্যাক্টিভ থাকার সুযোগ হচ্ছে না। এরপরও জেলার আইনশৃঙ্খলা রক্ষার্থে পুলিশ তৎপর রয়েছে।’

ওসমানী পৌর স্টেডিয়াম হচ্ছে পুলিশ সদস্যদের আইসোলেশন কেন্দ্র

এদিকে আক্রান্ত পুলিশ সদস্যদের জন্য ওসমানী পৌর স্টেডিয়ামটি আইসোলেশন কেন্দ্র করা হয়েছে জানিয়ে পুলিশ সুপার বলেন- ‘আক্রান্ত সদস্যদের জেলা পুলিশ লাইন্স স্কুলে গঠিত আইসোলেশন কেন্দ্রে রাখা হয়েছে। আক্রান্তের সংখ্যা বৃদ্ধি পেলে পুলিশ লাইন্স স্কুলটি আইসোলেশনের জন্য পর্যাপ্ত হবে না। তাই আমরা নারায়ণগঞ্জ ওসমানী পৌর ক্রিকেট স্টেডিয়ামটি আইসোলেশন কেন্দ্র করার জন্য প্রস্তুত করছি। এখানে আইসোলেশনের সকল সু-ব্যবস্থা থাকবে। সকালে স্টেডিয়ামের প্যাভিলিয়ন পরিদর্শন করেছিলাম। অবকাঠামোগত সুযোগ সুবিধা অত্যন্ত ভালো। পরিদর্শনের সময় জেলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক তানভীর আহমেদ টিটু উপস্থিত ছিলেন। ক্রীড়া সংস্থা এ বিষয়ে অত্যন্ত আন্তরিক। তারা আন্তরিক ভাবে সম্মতি দিয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘পৌর স্টেডিয়ামে আমরা প্রাথমিক ৪০ শয্যা বিশিষ্ট আইসোলেশন বেড করছি। তবে এখানে অন্তত ৫০টির মত বেড করা যাবে। প্রয়োজন পড়লে তা বাড়ানো হবে।’

এদিকে গত শনিবার ফতুল্লা থানা যুবলীগের কার্যালয়টি পুলিশের জন্য আইসোলেশন করার সিদ্ধান্ত নেয়া হলেও শেষ পর্যন্ত এই সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসেছে পুলিশ।

এ প্রসঙ্গে পুলিশ সুপার বলেন- ‘যুবলীগের কার্যালয়টি আইসোলেশন করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছিলো ঠিক, কিন্তু সেখানে পর্যাপ্ত জায়গা বা অবকাঠামোগত অন্যান্য সুযোগ সুবিধা না থাকায় আমরা সেই সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসেছি। কারণ স্টেডিয়াম অনেক বেটার হবে।’


তিনি জানান, ‘আক্রান্তদের মধ্যে যাদের শরীরে উপসর্গ নেই এমন ২৯ জনকে জেলা পুলিশ লাইন্স স্কুলের আইসোলেশন কেন্দ্রে রাখা হয়েছে। আর উপসর্গ রয়েছে এমন ৫জনকে ঢাকার করোনা বিষয়ক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এছাড়া অন্যরা নিজ নিজ বাসায় থেকে চিকিৎসকের পরামর্শ নিচ্ছেন। আক্রান্তদের ৯০ শতাংশই নারায়ণগঞ্জ সদর, ফতুল্লা ও সিদ্ধিরগঞ্জ থানার। তাদের সংস্পর্শে আসা ২ জন জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার পদমর্যাদার কর্মকর্তাসহ কয়েকজন কোয়ারারেন্টিনে রয়েছেন।’

 

সময় নারায়নগঞ্জ.কম এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আপনার মন্তব্য লিখুন:

মহানগর -এর সর্বশেষ