আজ ৪ অগ্রাহায়ণ ১৪২৬, সোমবার ১৮ নভেম্বর ২০১৯ , ৪:২৭ অপরাহ্ণ
ব্রেকিং নিউজ
সর্বশেষ খবর
আড়াইহাজারে ফ্যাক আইডি দমনে শুরু হচ্ছে পুলিশের এ্যাকশন সাংবাদিক নয়নের মৃত্যুতে আড়াইহাজার রিপোর্টার্স ক্লাবের শোক নায়ক শাকিব খানকে ১০ লাখ টাকা জরিমানা অবশেষে ভেঙে গেল লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি চার জেলায় হঠাৎ বাস চলাচল বন্ধ

মোবাইল সেটই প্রবীরের খুনীদের চিহ্নিত করে দিলো !


১২ জুলাই ২০১৮ বৃহস্পতিবার, ০৭:১৬  পিএম

সময় নারায়ণগঞ্জ


মোবাইল সেটই প্রবীরের খুনীদের চিহ্নিত করে দিলো !

সময়  নারায়ণগঞ্জ: হার্টের রোগী ও প্রবীরের ঘনিষ্ঠবন্ধু হওয়ায় সামান্য জিজ্ঞাসাবাদের পরে পিন্টুর উপর থেকে সন্দেহটা সরে গিয়েছিল পুলিশের। অপহরণের নাটকেও বেশ মোড় নিতে পারতো প্রবীর হত্যার বিষয়টি। কিন্তু প্রবীরের ব্যবহৃত মোবাইল ফোনটি নিজের কাছে রেখে দেয়ার লোভ-ই শেষ পর্যন্ত পিন্টু ও বাপনকে আটকে দিলো।

স্বর্ণব্যবসায়ী প্রবীর নিখোঁজ হবার পরে মূলত: পিন্টুই কৌশলে প্রবীরের পালিয়ে যাবার গুজব তোলেন। বিষয়টি অনেকের মতো পুলিশের কাছেও সত্য বলে মনে হতে লাগে। এর আগে দু’জন স্বর্ণব্যবসায়ী গ্রাহকের টাকা ও স্বর্ণ নিয়ে পালিয়ে যাবার ঘটনাটি উদাহরণ তুলে ধরে মার্কেটে বিষয়টি গোপনে ছড়িয়ে দেন পিন্টু। সেই সাথে সন্ধানের দাবিতে নিজে সোচ্চার ছিলেন।

এমনকি রাতে পিন্টুর স্ত্রী-কন্যাদের বাড়িতে গিয়ে সান্তনাও দিতেন। প্রবীরের দুই কন্যাকে নগরীর বেশ কয়েকটি হোটেলে খাবার খাইয়েছেনও।

নগরীর কালীরবাজার স্বর্ণপট্টি এলাকার ব্যবসায়ী প্রবীর ঘোষ নিহতের ঘটনায় আলোচিত তারই বন্ধু পিন্টু ভৌমিক। এখন রিমান্ড চলছে জিজ্ঞাসাবাদ।

গ্রেফতারকৃত পিন্টু দেবনাথ কুমিল্লা জেলার মেঘনা থানার চন্দনপুরের মৃত সতীশ দেবনাথের ছেলে। তার ব্যবসা প্রতিষ্ঠান পিন্টু স্বর্ণ শিল্পালয়ের পাশেই। শহরের আলমাপাড়া এলাকাতে রাশেদুল ইসলাম ঠান্ডুর চারতলা বাড়ির দোতলায় ভাড়া নিয়ে বাস করতেন তিনি। নগরের কালীরবাজার স্বর্ণপট্টি এলাকার কাজী ভবনের নিচতলায় মা স্বর্ণ শিল্পালয় নামে একটি প্রতিষ্ঠান রয়েছে তার।

 অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. শরফুদ্দিন গণমাধ্যমকে জানান, প্রবীর ঘোষ নিখোঁজ হওয়ার পরপরই পুলিশ তাকে উদ্ধারে অভিযান শুরু করে। ১৮ জুন রাতে পিন্টুর বাড়ির সামনের একটি সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, পিন্টুর পেছন পেছন হেঁটে যাচ্ছেন প্রবীর। ওই ফুটেজ দেখে পুলিশ একাধিকবার জিজ্ঞাসাবাদ করেছে পিন্টুকে। কিন্তু বাইপাসের রোগী হওয়ায় তাকে তেমন চাপও দিতে পারছিল না তারা। ফলে এর আগে তিনবার তাকে বিভিন্নভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করলেও তার চতুরতায় তেমন কোনো তথ্য উদঘাটন করতে পারেনি পুলিশ।

প্রতিবার জিজ্ঞাসাবাদে তিনি জানিয়েছেন, ১৮ জুন রাতে তার কাছে এসে সাড়ে সাত হাজার টাকা চেয়েছে প্রবীর। পিন্টু তার কাছে দেড় হাজার টাকা আছে বলে জানালে টাকা না নিয়েই সে চলে যায়। তৃতীয়বার জিজ্ঞাসাবাদের তিনি জানিয়েছেন, ইসলাম হার্ট সেন্টার নামে একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন পিন্টু। এ কারণে তার ওপর থেকে পুলিশও শেষ পর্যন্ত সন্দেহ সরিয়ে নেয়।

পুলিশ সুপার শরফুদ্দিন আরও বলেন, নিখোঁজ প্রবীরের মোবাইল ফোন নম্বরটি আমরা অব্যাহতভাবে ট্র্যাকিং করছিলাম। ১৮ জুন রাতে ফোনটি নগরের আলমখান লেনের সামনে থেকে বন্ধ হয়ে যায়। এর পর সেটি সচল হয় ২১ জুন। ওইদিন প্রবীরের মোবাইল ও সিম ব্যবহার করে একটি খুদেবার্তা পাঠানো হয় প্রবীরের ছোট ভাই বিপ্লবের মোবাইলে। তাতে উল্লেখ করা হয়- এ ঘটনার সঙ্গে কালীরবাজারের রাঘববোয়ালরা জড়িত। প্রবীরকে ছাড়াতে দেড় কোটি টাকা নিয়ে মেয়র হানিফ ফ্লাইওভারের ওপর যেতে বলা হয়। বিপ্লব এই খুদেবার্তাটি দেখালে পুলিশ বিপ্লবের মোবাইল থেকে ফিরতি বার্তা পাঠায়- কবে, কখন, কার কাছে টাকা পৌঁছাতে হবে। কিন্তু অপর প্রান্ত থেকে আর কোনো উত্তর না পাওয়ায় পুলিশ তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার করে জানতে পারে, প্রবীরের মোবাইল ফোনটি কুমিল্লার সীমান্তবর্তী এলাকায় সচল করা হয়েছিল। এরপর ওখানে প্রবীরের স্বজনদের নিয়ে তল্লাশি চালায় পুলিশ।

৭ জুলাই সন্ধ্যার পর হঠাৎ করেই প্রবীরের মোবাইল ফোনটি সচল হয়ে ওঠে আবার। ওটাতে অন্য সিম যুক্ত করে ব্যবহার করছে কেউ। পুলিশ আবারও তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার করে জানতে পারে- এটি নগরের কালীরবাজার স্বর্ণপট্টি এলাকায় ব্যবহার হচ্ছে। ওই ফোনে যে সিমটি ব্যবর্হত হচ্ছে সেই নম্বরে পিন্টু ৭৯ বার কথা বলেছে এ সময়ের মধ্যে।

৮ জুলাই সকালে পুলিশ বাপন ভৌমিক নামে এক যুবককে আটক করে, নিখোঁজ প্রবীরের মোবাইল ফোনটি উদ্ধার করে পুলিশ তার কাছ থেকে। মোবাইল সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি জানান, সেটটি তাকে পিন্টু দিয়েছে। পরে তার তথ্যে পিন্টুকে ফের আটক করে ডিবি কার্যালয়ে নিয়ে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।

  এক পর্যায়ে পিন্টু পুলিশকে জানান, প্রবীর মোবাইল ফোনটি তার কাছে রেখে আগরতলা চলে গেছেন। এ কথা কাউকে না জানাতে তাকে দিব্যি দিয়ে যাওয়ায় এতদিন মুখ খোলেননি তিনি। কিন্তু মোবাইল সেট তার কাছে দিয়ে গেলে প্রবীরের সিম কীভাবে কুমিল্লার সীমান্ত অঞ্চলে সচল হলো এ প্রশ্নের কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি পিন্টু। এক পর্যায়ে পিন্টু ও বাপনকে মুখোমুখি জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে প্রবীরকে হত্যা করে লাশ পিন্টু তার ভাড়া বাসার সেপটিক ট্যাঙ্কে টুকরা করে ফেলে দিয়েছে বলে জানান। সোমবার মধ্যরাতে পুলিশ পিন্টুকে নিয়ে তার ভাড়া বাসার সেপটিক ট্যাঙ্কে তল্লাশি চালায়।

১৮ জুন রাতেই পিন্টু তার ফ্ল্যাটে প্রবীরকে হত্যা করেছে বলে পুলিশের কাছে প্রাথমিকভাবে স্বীকারোক্তি দিয়েছেন। প্রবীরকে হত্যা এবং লাশ সেপটিক ট্যাঙ্কে ফেলে দেওয়ার পরপরই পিন্টু তার সহযোগী বাপনকে প্রবীরের মোবাইল ফোনটি বন্ধ করে দিয়ে কুমিল্লা পাঠিয়ে দেন। বাপন পিন্টুর কথামতো কুমিল্লা সীমান্ত অঞ্চলে গিয়ে ২১ জুন সেটি সচল করে একটি খুদেবার্তা পাঠান প্রবীরের ছোট ভাই বিপ্লবের কাছে। এরপর মোবাইল ফোন আবারও বন্ধ করে দিয়ে, সিম ফেলে দিয়ে, সেটা নিয়ে ফিরে আসেন নারায়ণগঞ্জে। কিন্তু পিন্টুর নির্দেশ ছিল মোবাইল ফোনটি যেন ফেলে আসা হয় কুমিল্লায়, যাতে পুলিশ মোবাইল ট্র্যাকিং করলে জানতে পারে প্রবীর কুমিল্লা সীমান্ত দিয়ে ভারতে চলে গেছে। তাছাড়া ঘটনাটিকে অপহরণ হিসেবে সাজাতে কুমিল্লা থেকে প্রবীরের মোবাইল ব্যবহার করে মুক্তিপণ চেয়ে খুদেবার্তাটিও পাঠিয়েছিল। এসব কারণে পুলিশকে বেশ বেকায়দায় পড়তে হয় ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটন করতে। পুলিশও একটা সময় পর্যন্ত নিশ্চিত ছিল যে, হয়তো কোনো কারণে ভারতেই চলে গেছেন প্রবীর।

সময় নারায়নগঞ্জ.কম এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আপনার মন্তব্য লিখুন:

শহরের বাইরে -এর সর্বশেষ