আজ ৩ কার্তিক ১৪২৬, শনিবার ১৯ অক্টোবর ২০১৯ , ২:০৩ পূর্বাহ্ণ
ব্রেকিং নিউজ
সর্বশেষ খবর
সৌদিতে বাসে আগুনে পুড়ে নিহতদের মধ্যে রূপগঞ্জের দুই ভাই আফগানিস্তানে মসজিদে হামলা, নিহত অন্তত ৬২ বন্দরে শেখ রাসেল স্মৃতি সংসদ এখন চায়ের দোকান ! পুকুড়ে গোসল করতে গিয়ে দুই ভাইয়ের মৃত্যু বরযাত্রী বাসে অগ্নিকান্ড

প্রকাশিত সংবাদের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানালেন মীর সোহেল


০৯ অক্টোবর ২০১৯ বুধবার, ০৪:৪৩  পিএম

সময় নারায়ণগঞ্জ


প্রকাশিত সংবাদের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানালেন মীর সোহেল

স্টাফ রিপোর্টার : ৯ অক্টোবর নারায়ণগঞ্জ থেকে প্রকাশিত ‘ডান্ডিবার্তা.কম’ নামক একটি নিউজ পোর্টালে “না’গঞ্জ আ’লীগে অনুপ্রবেশকারীরা বেপরোয়া” এই শিরোনামে সংবাদ প্রকাশিত হয়।  এমন উদ্দেশ্য প্রণোদিত সংবাদের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন জেলা আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও ফতুল্লা থানা যুবলীগের সভাপতি মীর সোহেল আলী। বুধবার (৯ আগস্ট) সময় নারায়ণগঞ্জে প্রেরিত এক বিবৃতিতে তিনি এই নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান।



মাঠে তুমুল সক্রিয় এই আওয়ামীলীগ নেতা তার বিবৃতিতে বলেন, ওই সংবাদে আমাকে হেয় করার উদ্দেশ্য পরিস্কার ভাবে ফুঁটে উঠেছে। এতে বলা হয়েছে, আমি বিএনপি থেকে আওয়ামীলীগে অনুপ্রবেশ করেছি এবং আমি নাকি ফতুল্লা থানা ছাত্রদলের আহবায়ক নির্বাচিত হয়েছি। আসলে আমার রাজনীতিতে পদচারনা শুরু হয় কমিউনিস্ট পার্টির মাধ্যমে। ছাত্র জীবনে নীল রতনদার হাত ধরে কমিউনিস্ট পার্টিতে এসেছিলাম। এরপর কলেজ শেষে ছাত্রদলের রাজনীতিতে জড়ালেও ছাত্রদল বা বিএনপিতে আমার কোন পদ-পদবী ছিলনা।


তিনি বলেন, আমার চাচা মীর মোকসেদ আলী একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা। আমি তার মুখে মহান স্বাধীণতার ইতিহাস জানতে শুরু করি। তার মুখেই জানতে পারি, স্বাধীণতা যুদ্ধে বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ এবং স্বাধীণতার স্থপতি হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙ্গালী জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের বলিষ্ঠ নেতৃত্বগুণের ইতিহাস। সেই থেকে আওয়ামীলীগ ও জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আদর্শের প্রতি ভালোবাসা তৈরী হয়। একই সাথে নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ্ব এ.কে.এম শামীম ওসমান ভাইয়ের নেতৃত্বগুণে অনুপ্রাণিত হই। এরপর আমাদের প্রাণপ্রীয় নেতা আলহাজ্ব এ.কে.এম শামীম ওসমান ভাইয়ের হাত ধরে ১৯৯৬ সনে আওয়ামীলীগে যোগদান করি। এর মূল কারণ হচ্ছে, আওয়ামীলীগ স্বাধীণতার স্বপক্ষের দল।


তিনি আরো বলেন, ১৯৯৬ সাল থেকে আমি স্বাধীনতার স্বপক্ষের দল আওয়ামীলীগের একজন নিবেদিত প্রাণ হয়ে কাজ করছি। আমি আওয়ামীলীগে আসার পরও এদেশে বিএনপি ক্ষমতায় এসেছিল। কিন্তু আমি আওয়ামীলীগ ছেড়ে যাইনি। এমনকি আওয়ামীলীগ করায় বিএনপির আমলে ৫ বছর ফতুল্লায় থাকতে পারিনি। বিএনপির দ্বারা বহু নির্যাতনের শিকার হয়েছি। মামলা দিয়েও আমাকে হয়রানী করা হয়েছিল।

তিনি বলেন, বিগত ২৭ বছর আগে ছাত্রদলের সাথে থাকলেও কখনও জামায়াতের সাথে ছিলাম না। আমি সর্বদা জামায়াত বিরোধী ছিলাম। এখনও তাই।

আমি আওয়ামীলীগে যোগদানের পর আমার যোগ্যতার কারণে আমাকে ফতুল্লা থানা যুবলীগের সভাপতি করা হয়েছে। আমি যোগ্য এবং আওয়ামীলীগে পরীক্ষিত বলেই আমাকে জেলা আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক করা হয়েছে। আমি সততার সাথে দীর্ঘ বছর ধরে ফতুল্লা থানা যুবলীগকে নেতৃত্বে দিচ্ছি। আমার অধিনেই ফতুল্লার ইতিহাসে যুবলীগ সব চেয়ে বেশি সক্রিয়। আমি কখনই অপরাজনীতি করিনি। ওই সংবাদে আমাকে নিয়ে বলা হয়েছে যে, আমি যুবলীগের সভাপতি হয়ে দাপা ঘাট দখল করায় আমাকে বহিস্কার করা হয়েছে। তাহলে আমি আবার যুবলীগের সভাপতির পদে আসলাম কি করে? আসলে সেদিন ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে ঘাট নিয়ে আমার বিরুদ্ধে মিথ্যাচার করা হয়েছিল। পরে কেন্দ্রীয় কমিটি ও স্থানীয় নেতৃবৃন্দদের সুষ্ঠ তদন্তের মাধ্যমে আমি নির্দোষ প্রমানিত হওয়ায় এবং ওই ঘটনাটি ষড়যন্ত্র বলে প্রতিয়মান হওয়ায় আমাকে পূনরায় স্ব-সম্মানে থানা যুবলীগের সভাপতির দায়িত্ব বুঝিয়ে দেয়া হয়েছে। আমি আওয়ামীলীগে যোগদানের পরই ফতুল্লায় আওয়ামীলীগের ভাবমূর্তি উজ্জল হয়েছে।  


তিনি বলেন, ডান্ডিবার্তা.কমে প্রকাশিত ওই সংবাদে আমাকে মাদক ও সন্ত্রাসীদের সেল্টারদাতা বলে মিথ্যাচার করা হয়েছে। আমি বুকে হাত দিয়ে বলতে পারি, আমি কখনও মাদক ও সন্ত্রাসকে প্রশ্রয় দেইনি। আমার কোন কর্মী যদি মাদকের সাথে সম্পৃক্ত থাকে, সেটা আমি জানার সাথে সাথেই তাকে বিতারিত করে দেই। কোন মাদক ব্যবসায়ীদের স্থান আমার কাছে নেই। এর একাধিক প্রমান রয়েছে।

এ প্রসঙ্গে তিনি আরও বলেন, কেউ যদি মাদক ছেড়ে সুস্থ জীবনে ফিরে এসে সুস্থ ধারায় রাজনীতি করতে চায়, তাহলে আমি তাকে স্বাগত জানাই। কারণ আমি মনে করি, ভালো হওয়ার সুযোগ সবাইকে দিতে হবে। কেউ ভালো হতে চাইলে তাকে দুরে ঠেলে দিলে সে আরো খারাপ হয়ে উঠবে।   


ওই সংবাদে শুধু মীর সোহেল নয়, তার গোটা পরিবার নিয়ে লেখা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, ফতুল্লায় মীর সোহেলের পরিবারকে বিচারের মাধ্যমে নাকি সমাজচ্যুত করা হয়েছে। এমন মিথ্যা ও বানোয়াট সংবাদের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন মীর সোহেল।

তিনি বলেন, দীর্ঘ প্রায় ৬০ বছর পূর্বে আমার বাবা মীর মোজাম্মেল আলী ফতুল্লায় বাড়ী করেছেন। আমার বাবা শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে চাকুরী করেছেন। আমার জন্ম ফতুল্লায়। আমাদের পরিবারের সকল সদস্যই সম্মানের সহিত সমাজে মাথা উচু করে চলাফেরা করছে। আজ পর্যন্ত আমাদের পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে সমাজে বিচারের কোন নজির নাই। ডান্ডিবার্তা.কমে প্রকাশিত ওই সংবাদটি সম্পূর্ন মিথ্যা ও বানোয়াট।  আমি এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই।
 

তিনি আরো বলেন, ওই সংবাদে আমাকে কবরির লোক বলে উল্লেখ করা হয়েছে।  তৎকালিন এমপি সারাহ বেগম কবরি কিন্তু আওয়ামীলীগের মনোনিত প্রার্থীই ছিলেন। তাকে এই আসনে আওয়ামীলীগের নৌকা প্রতীকই দেয়া হয়েছিল। তাই আমাদের নেতা শামীম ওসমান ভাইয়ের কথায় আমি সহ ফতুল্লা থানা আওয়ামীলীগ ও সহযোগি সংগঠনের সকল নেতাকর্মীরাই নৌকার বিজয়ের জন্য কাজ করেছি। কারণ আমাদের প্রতিক হচ্ছে নৌকা। প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশ হচ্ছে প্রার্থী যেই হোক, নৌকা প্রতীকের জন্য কাজ করতে হবে। তাই নৌকার জন্য কাজ করেছি, কবরীর জন্য নয়।


তিনি বলেন, আমাদের নেতা আলহাজ্ব একেএম শামীম ওসমান নিজেই আওয়ামীলীগের বড় বিজ্ঞাপন। তিনি আওয়ামীলীগ পরিবারের আদর্শ সন্তান। তাই আমরাও তার আদর্শে আদর্শিত হয়ে তার হাতে হাত রেখে আওয়ামীলীগের রাজনীতি করছি। সেই আদর্শই বুকে ধারণ করেই মৃত্যু বরণ করতে চাই।


তিনি বলেন, এই সংবাদ যেভাবে উপস্থান করা হয়েছে, তা সুস্পষ্ট যে, এটা কোন কু-চক্রীদের ইশারায় আমার সম্মানহানী করার অপচেষ্টা চালানো হচ্ছে। এতে আমার পরিবারের সদস্যদের টানা হয়েছে। ২৭ বছর আগের সেই ছাত্রদলের কথা টানা হয়েছে। আমার বাবা একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা। তার কথাও টানা হয়েছে। কিন্তু কেন ? কি নিয়ে এতো মাথা ব্যথা ? মানুষ এসব বুঝে। কেউ বোকা নয়। তাই এমন সংবাদের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি।


সবশেষে একটি কথাই বলব, সেটি হচ্ছে, সাংসাদিকদের জাতির বিবেক হিসেবে ধরা হয়। তাই অপসাংবাদিকতার পন্থা বাদ দিয়ে এবং কারো চরিত্র হননে কলম ব্যবহার না করে নিজের বিবেককে জগ্রত করুন।

সময় নারায়নগঞ্জ.কম এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আপনার মন্তব্য লিখুন:

রাজনীতি -এর সর্বশেষ