আজ ২৭ শ্রাবণ ১৪২৭, মঙ্গলবার ১১ আগস্ট ২০২০ , ৩:০৯ অপরাহ্ণ
ব্রেকিং নিউজ
সর্বশেষ খবর
নারায়ণগঞ্জবাসীকে ঈদুল ফিতরের আগাম শুভেচ্ছা জানালেন সজল বিন ইবু রূপগঞ্জ উপজেলায় সকল মার্কেট বন্ধের নির্দেশ সোনারগাঁয়ে সকল বিপনি বিতান বন্ধ করে দিলেন প্রশাসন না’গঞ্জের সাবেক সেই এসপি হারুন এবার ডিএমপির উপ-কমিশানর করোনা: শরীফুল হকের পক্ষে সবাইকে সচেতন থাকার আহ্বান জানালেন শাওন

করোনায় বিপর্যস্ত নারায়ণগঞ্জের ক্রীড়াঙ্গন, প্রিমিয়ার নিয়ে শঙ্কা


২৮ এপ্রিল ২০২০ মঙ্গলবার, ১০:৫৯  এএম

সময় নারায়ণগঞ্জ


করোনায় বিপর্যস্ত নারায়ণগঞ্জের ক্রীড়াঙ্গন, প্রিমিয়ার নিয়ে শঙ্কা

তুষার আহমেদ : করোনাভাইরাসের প্রভাবে নারায়ণগঞ্জের প্রতিটি বিভাগই বিপর্যস্ত। বাদ যায়নি জেলার ক্রীড়াঙ্গনও। করোনার ব্যাপকতা বৃদ্ধি পাওয়া নারায়ণগঞ্জের খেলার মাঠগুলো নিস্তব্ধ হয়ে পড়েছে দীর্ঘদিন ধরেই। সাস্থ্য ঝুঁকি এড়াতে অনুশীলন বন্ধ রেখেছে ক্রিকেট ও ফুটবল ক্লাবগুলো।

জানা গেছে, গত ২৬ মার্চ থেকে সরকারী ছুটি শুরু হলেও সংক্রোমন এড়াতে তারও আগে ২০ মার্চ থেকেই নারায়ণগঞ্জে ক্রিকেট লিগ ও সংশ্লিষ্ট কার্যক্রম বন্ধ হয়েছে। ফলে শুরু হয়েও ঝুলে রয়েছে সাবেক ক্রিকেটারদের মাস্টার ক্লাব নামক বাৎসরিক টুর্নামেন্ট।

এই টুর্নামেন্টের মাধ্যমে নারায়ণগঞ্জে মিলন মেলা হয়ে থাকে সাবেক ক্রিকেটারদের। করোনার প্রভাবে তা সম্পন্ন হয়নি। আর ১ম বিভাগ ও প্রিমিয়ার লিগতো মাঠেই গড়ায়নি। বৃষ্টির মৌসুম চলে আসায় এবছর এই দুই লিগ নিয়ে অনিশ্চয়তায় রয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

এর আগে অবশ্য প্রাইম ব্যাংক বঙ্গবন্ধু কাপ স্কুল ক্রিকেট, কোয়ালিফাই, দ্বিতীয় ও তৃতীয় বিভাগ লিগ সম্পন্ন করেছে জেলা ক্রীড়া সংস্থা।

অন্যদিকে সংক্রোমন এড়াতে এক মাসেরও বেশি সময় ধরে বন্ধ রয়েছে ক্লেমন নারায়ণগঞ্জ ক্রিকেট একাডেমী, চন্দা, রেইনবো ও শীতলক্ষ্যা স্পোটিং ক্লাবসহ দায়িত্বশীল অন্যান্য একাডেমীগুলো। ফলে মাঠ ছেড়ে ঘর মুখো রয়েছেন শিক্ষানবীশ ও বিভিন্ন ডিভিশনের খেলোয়াড়রা।

এক মাসেরও বেশী সময় ধরে চলছে এই পরিস্থিতি। তাই ঘরে বসেই ফিটনেস, স্কিল ও আত্মবিশ^াস ধরে রাখার চ্যালেঞ্জে নেমেছেন প্রত্যেকেই।

তবে, ঘরে বসে এই চ্যালেঞ্জে টিকে থাকা কঠিন বলেই মনে করছেন বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের সাবেক ক্রিকেটার নারায়ণগঞ্জের ছেলে জাহাঙ্গীর আলম।

নারায়ণগঞ্জের এই কৃতি সন্তান বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের অন্যতম সদস্য ছিলেন। ১৯৯৭ থেকে ১৯৯৯ সময়কালে বাংলাদেশ দলের পক্ষে ৩টি একদিনের আন্তর্জাতিক ম্যাচে অংশ নিয়েছেন। মারকুটে এই ওপেনার দলের প্রয়োজনে উইকেট রক্ষক হিসেবেও নিজেকে মেলে ধরতেন আন্তর্জাতিক অঙ্গনে। ঘরোয়া ক্রিকেটে ছিলেন আরো দূর্দান্ত।

১৯৮৯ সালে অনূর্ধ্ব-১৯ দলের হয়ে ইংল্যান্ড সফরে নিজেকে প্রমান করেছিলেন তিনি। দর্শক-নন্দিত শতক তুলে সফর শুরু করেন ডানহাতি সাবেক এই ওপেনার। ওয়েকোম্বের বিপক্ষে তার ১৩২ রানের ঝলমলে ইনিংস দলের হয়ে টপকাতে পারেনি কেউ। এসময় তিনি জাভেদ ওমরের সাথে উদ্বোধনী জুটিতে ২১০ রান তোলেন। এছাড়াও হোমস্টেডের বিপক্ষে ৩৫ ও ওয়াকহামের বিপক্ষে ৪০ রান করেন। সামগ্রিকভাবে পাঁচ ম্যাচে ৪৩.৮০ গড়ে ২১৯ রান সংগ্রহ করেন তিনি। প্রথম বিশ^কাপেও বাংলাদেশ দলের সদস্য ছিলেন নারায়ণগঞ্জের এই ক্রিকেটার।

করোনায় ক্রিকেটের সমসাময়ীক পরিস্থিতি নিয়ে সময় নারায়ণগঞ্জের এ প্রতিবেদকের সাথে কথা বলেছেন বাংলাদেশ ক্রিকেটের জীবন্ত এই কিংবদন্তি। একই সাথে বর্তমান শিক্ষানবীশ খেলোয়াড়দের জন্যেও দিয়েছেন নানা দিক নির্দেশনা।

তার মতে, মাঠ খেলোয়াড়দের মানসিক ভাবে প্রশান্তি দেয়। আর দীর্ঘদিন মাঠ ছেড়ে ঘরে বসে থাকলে ফিটনেস ও স্কিল সংকটের পাশাপাশি নিজের মানসিক পরিবর্তন দেখা দিতে পারে। তাই এর সাথে লড়াই করতে হবে ধৈর্যের অস্ত্র দিয়ে। সেক্ষেত্রে ধৈর্যের পাশাপাশি নিজের আত্মবিশ^াসও থাকতে হবে প্রবল।

এ প্রসঙ্গে সাবেক এই ক্রিকেটার সময় নারায়ণগঞ্জ’কে বলেন, ‘যারা ক্রিকেটার হওয়ার স্বপ্ন বুকে লালন করেন, তারা মাঠে যেতে না পাড়ায় এই মুহুর্তে হয়তো মানসিক ভাবে অস্বস্তি অনুভব করতে পারে। একই সাথে ফিটনেসে নেতিবাচক পরিবর্তন চলে আসবে। তাই পরিস্থিতি মোকাবেলা করতে হলে এই মুহুর্তে মানসিক, ধৈর্য শক্তি ও আত্মবিশ^াসের বিকল্প নেই। ধৈর্য হারা হলে আত্মবিশ^াসে ভাটা পড়বে। তখন সেখান থেকে ফিরে আসা আরো কঠিন হয়ে পড়বে।’

তাই ঘরে থেকে দৈনিক অন্তত একঘন্টা সময় হলেও ফিটনেস নিয়ে কাজ করার পরামর্শ সাবেক এই ক্রিকেটারের।

তিনি বলেন- ‘এই মূহুর্তে অন্তত একঘন্টা সময় হলেও ফিটনেস নিয়ে কাজ করতে হবে। ঘরে বসে যেসব শারীরিক অনুশীলন করা যায় সেগুলো নিয়মিত করতে হবে। যেমন- পুশ-আপ, হ্যামস্ট্রিং, যোগ ব্যায়াম, ঘরের ভেতর হাটাহাটি করা ইত্যাদী। আর স্কিল ধরে রাখার জন্য ব্যাটসম্যানদের শ্যাডোর বিকল্প নেই। মনোসংযোগ ধরে রেখে শ্যাডো করতে হবে। এগুলো ঘরে বসেই করা যায়।’

নিজের উদাহরণ টেনে জাহাঙ্গীর আলম বলেন- ‘পেশাদারিত্ব ভাবে ক্রিকেট থেকে অবসর নিলেও অনুশীলন থেকে অবসর নেইনি। এখনও অনুশীলন করি, ফিটনেস ঠিক রাখার জন্য। ক্রিকেট জীবনের সাথে অতপ্রোত ভাবে জড়িয়ে গেছে।’

তিনি বলেন- ‘এখন পবিত্র রমজান মাস চলছে। আল্লাহর ইবাদতের মধ্যেই দিন কেটে যাচ্ছে। কিন্তু এরপরও ইফতার শেষে ঘরের ভেতর হাটাহাটি করি। তবে, রোজার আগে আরো বেশি পরিশ্রম করতাম। ঘরে বসে বিভিন্ন ভারী অনুশীলন করতাম।’

এদিকে হৃদয়ের টানে তিনি বারবার ছুটে আসেন মাঠে। কিন্তু ব্যাট-বল বিহীন কোলাহোল মুক্ত মাঠে এলে যেন এক রকম চাপা হাহাকার শুনতে পান চারিদিকে। এই দৃশ্য বড়ই নাড়া দেয় তাকে।

এই প্রসঙ্গে জাহাঙ্গীর আলম বলেন- করোনার প্রভাবে মাঠের পরিবেশ পরিস্থিতি পাল্টে গেছে। চিরচেনা ওসমানী পৌর স্টেডিয়াম এখন অচেনা মনে হয়। একেবারে পিনপতন নিরবতা। মাঠে কোন ক্রিকেটার নেই। কোলাহোল নেই। চারিদিকে কেমন যেন হাহাকার করছে। মাঠের এমন পরিবেশ কখনও দেখিনি। জিমখানা ও পৌর স্টেডিয়ামের একই অবস্থা। যেন নিষ্প্রাণ হয়ে পড়েছে।’

তার দৃঢ় বিশ^াস, অচিরেই পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে উঠবে। আবারো কোলাহোলে মেতে উঠবে খেলার মাঠ। কানে ভেসে আসবে ব্যাটে-বলের চিরচেনা মিষ্টি মিতালী শব্দ। সেই বাসনায় সৃষ্টিকর্তার কাছে প্রার্থনা করছেন প্রতিনিয়তই। সবাইকে প্রার্থনা করার অনুরোধও জানিয়েছেন তিনি।

 

সময় নারায়নগঞ্জ.কম এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আপনার মন্তব্য লিখুন:

খেলাধুলা -এর সর্বশেষ